মেয়েরা ঠিক কী চায়, বুঝতে গেলে পড়তে হবে

সব ছেলেদের মুখেই এক রা – ‘মেয়েদের মন বোঝা, রকেট সায়েন্সের থেকেও বেশি শক্ত।’ বিশ্বের আচ্ছা আচ্ছা মানুষজন মহিলা মননের তল খুঁজে পেতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে যান। বর্তমান বা হবু ‘হোম মিনিস্টার’ (পড়ুন গৃহকর্ত্রী)-কে তুষ্ট রাখতে রকমারি উপায় খুঁজলেও, অনেক ক্ষেত্রেই এক্কেবারে ফ্লপ হয়ে যায় যাবতীয় পরিকল্পনা। কারণ, মেয়েরা যে ঠিক কী চায়, সেটাই তো বোঝা দুষ্কর।

সার্বিক মতামত ও অভিজ্ঞতা থেকে কতগুলো এমন বিষয় লক্ষ করা গেছে, যেগুলো মোটের উপর খুশি করে বেশিরভাগ মেয়েকেই। একবার নজর বুলিয়ে দেখে নিন, আপনার প্রেয়সীর ক্ষেত্রে কাজে লেগে যেতে পারে এই সাধারণ অথচ খুব দামী টোটকা।

১) শরীরী ভাষা বোঝা

একটি মেয়ের মনের কোণে উঁকিঝুঁকি মারার সময় অনেকেই মেয়েটির শরীরী ভাষার দিকে নজর রাখতে ভুলে যান। মেয়েটি মুখে কী বলছে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে, বোঝার চেষ্টা করুন তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। তাতেই হতে পারে কেল্লা ফতে। সেটা তাঁর তাকানো, মুখের এক্সপ্রেশন অথবা হাল্কা ছোঁয়া- যাই হোক। মেয়েরা অনেক কিছু বলার চেষ্টা করেন তাঁদের শরীরী ভাষার মাধ্যমে।

২) একটু ঝঢ়ধপব দিন

কখনও মহিলাদের নিজস্ব স্পেসে হস্তক্ষেপ করবেন না। ভুলে যাবেন না, আপনি ও তিনি দুজনে দুটো আলাদা ব্যক্তিত্ব। কাজেই কিছু বিষয়, যেগুলি মেয়েটি তাঁর নিজের মধ্যেই রাখতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে, তা খুঁচিয়ে জানার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, আপনি তাঁর জীবনের একটি অংশ। কিন্তু তাই বলে কখনওই তাঁর সবকিছুর মালিক আপনি নন। তাঁরও একেবারে নিজস্ব কিছু সময়ের প্রয়ো জন। নিজস্ব স্পেস না থাকলে, তা আপনাদের সম্পর্কের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে।

৩) সততা ভুলে যান, প্রশংসাই শেষ কথা
মহিলারা তাঁদের লুক, ড্রেস ও শরীর নিয়ে সর্বদা সচেতন। ‘পার্টির জন্য কেনা নতুন ড্রেসে তাঁকে খুব মোটা লাগছে’ – এই ধরনের সত্যি কথা হাসিমুখে মেনে নেওয়াটা সত্যিই কঠিন যে কোনও মহিলার পক্ষে। এ জন্যই কিছু ক্ষেত্রে সততার পাঠ ভুলে থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। সবাই সবদিক দিয়ে নিখুঁত হবে, এমন কোনও কথা নেই। মেয়েরাও সেটা বোঝে। সেজন্যই মিথ্যে প্রশংসা না করলেও মুখের ওপর চরম সত্যিটা না বলাই ভালো।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   স্তন ঝুলে যাওয়া ও তার প্রতিকারের উপায়

৪) ঋতুচক্রের ফলে রোজ মেজাজ হারায় না

মেয়েদের মেজাজ বিগড়োলে বেশির ভাগ পুরুষই ঋতুচক্রের দোহাই দিয়ে থাকেন। মনে রাখা দরকার, প্রতিদিন কোনও মেয়ে এই সমস্যায় ভোগেন না। পুরুষের বোকা বোকা কাণ্ড দেখে অনেক সময়ই তাঁদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে না গিয়ে বরং তাকে গুরুত্ব দিয়ে সঙ্গিনীকে সাহায্য করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫) আগেই ভয় পাওয়া ঠিক নয়

‘তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে,’ শুনে বহু পুরুষেরই আশঙ্কা জাগে যে এই বুঝি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার মোক্ষম ইঙ্গিত দেওয়া হল। কিন্তু এতে আসলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কোনও লড়াই-ঝগড়া নয়, মেয়েটি হয়তো সত্যিই এমন কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছেন যা পুরুষ-নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

৬) একটু সম্মান দিন

একটি সম্পর্ক তখনই সফল হয় যখন একে অন্যের কদর করতে পারেন। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ আইন বলছে, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একই ভাবে যদি সঙ্গিনীর সম্মান পেতে চান তাহলে আগে তাঁকে সম্মান দিন। তার মানে এই নয় য়ে তাঁর সব কথায় সায় দিতে হবে, কিন্তু আপনি তাঁর শখ, পছন্দ, বন্ধু-বান্ধব, চেহারা, মতামত এবং কাজের মূল্যায়ন করার সময় সতর্ক থাকুন যাতে তিনি আঘাত না পান।

৭) ঘ্যানঘ্যান করা ছাড়ুন

কোনও মেয়েকে ভালো লাগলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনুসরণ করা বা প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ‘গুড মর্নিং’ মেসেজ পাঠানো থেকে বিরত থাকুন। মেয়েটির সত্যিই আপনাকে ভালো লাগলে স্বাভাবিক ভাবেই আকৃষ্ট হবে। এর জন্য ফেসবুক-টুইটার-হোয়াটসঅ্যাপে সকাল-বিকেল লাল গোলাপ আর প্রেমের কবিতা পাঠানোর দরকার নেই। মেয়েরা মনোযোগ আকর্ষণ করতে ভালোবাসে কিন্তু গায়ে পড়া বাব একেবারেই বরদাস্ত করে না। আর একটা কথা, যদি কোনও মেয়ে আপনার তুচ্ছ জোক্স শুনে প্রায়ই হেসে গড়িয়ে পড়ে, মনে রাখবেন সুদিন আগত ওই! তাই কথাবার্তায় একটু প্রাণোচ্ছল ভাব আনুন এবং তাতে কৌিতুকের ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করুন। তাই বলে মোটা দাগের ভাঁড়ামি করে বসবেন না।