শিশুর সামনে ঝগড়া করবেন না

আপনার সন্তান কি কথায় কথায় ঝগড়া করে? রইল কিছু পরামর্শ। শিশু মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমবয়সী ভাই-বোনের মধ্যে খুনসুটি, ঝগড়া একদম স্বাভাবিক। তবে শিশু যদি সব বিষয় নিয়েই ঝগড়া করে, সকলের সঙ্গে রাগের স্বরে কথা বলে তা হলে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ঝগড়া হল মতবিরোধ : আপনার সন্তানের কোনো কিছুই কেন মনমতো হচ্ছে না সেটা খুঁটিয়ে দেখুন।

সন্তানের ইচ্ছেতে সব সময় বাধা দেবেন না : হয়তো পড়ার সময় ও খেলতে চাইল, মাঝেমধ্যে সেটাও করতে দিন। না হলে রাগ পুষে রাখবে। আর তার বহিঃপ্রকাশ হবে ঝগড়ায়।

বাচ্চারা নানা বিষয়ে নালিশ করে : সব সময় গুরুত্ব দিলে ওরা উৎসাহিত হবে, বাড়বে ঝগড়ার প্রবণতা।

জোর করবেন না : ভাই-বোনের পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছে না-ই করতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোর করবেন না।

একা একা কম থাকতে দিন : ছোট পরিবারে দীর্ঘ সময় একা কাটায় শিশুরা। মনে ক্ষোভ জন্মায়। বাচ্চার সঙ্গে বেশি করে সময় কাটান।

মেজাজ ঠিখ রাখা : বাচ্চাকে বকাবকি করার সময় নিজের মেজাজ কখনোই হারাবেন না। শিশু কিন্তু দেখে দেখেই শেখে।

সমস্যার সমাধান করে দিন : গল্পের ছলে সন্তানকে বোঝান ভালবাসা দিয়েই সব জয় করা যায়। সমস্যায় পড়লে সব সময় ঝগড়া করার প্রয়োজন নেই।

বুঝাতে পারেন : ঝগড়াটে মানুষকে কেউ পছন্দ করে না এটাও সন্তানকে বোঝান।

শিশুকে সহনশীল হতে শেখান : চারপাশের অনেক কিছুই আমাদের পছন্দসই হয় না। কিন্তু তার মানেই যে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে এমন নয়।

যুক্তি দিচ্ছে কিনা খেয়াল করুন : ঝগড়া করার সময় বাচ্চা যুক্তি দিচ্ছে কিনা খেয়াল করুন। হতে পারে ওর মধ্যে ভবিষ্যতের যুক্তিবাদী-তার্কিক লুকিয়ে আছে। সে ক্ষেত্রে ওর মন অন্য দিকে চালিত করতে হবে।

নিজেরা সংযত হওয়া জরুরী : এ ক্ষেত্রে বাবা-মার আচরণ সংযত হওয়া ভীষণ জরুরি। সন্তানের সামনে নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করবেন না। এতে শিশুমনে বিরূপ প্রভাব পড়ে।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে চুমুর ধরণ !

ধ্যান করাতে পারেন : শিশুর ঝগড়া করার প্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত হলে ওকে ধ্যান করতে শেখান। এতে মন শান্ত হবে।

ভাল অভ্যাস গড়তে পারেন : সন্তানের সু-অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। ভাল সিনেমা, গান, গল্প- এই সবের সঙ্গে শিশুকে বড় হতে দিন। ঝগড়া করার ইচ্ছেই আর হবে না।