‘খুব অল্প সময়েই কাছে এসে যাই এবং শারীরিক সম্পর্ক…..’

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের নিয়মিত আয়োজন “প্রিয় সম্পর্ক”। আরসম্পর্ক ভিত্তিক সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে পরামর্শ দিচ্ছেন গল্পকার রুমানা বৈশাখী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি যে সমস্যাটির কথা বলব সেটা আসলে অনেক আগে ঘটে যাওয়া একটি সমস্যা। হয়তো অনেক আগে এটা বলার কথা ছিল। যখন বলার কথা তখন সামলে গিয়েছি আর আজকে এতদিন পরে সামলাতে পারছিনা।

আজ থেকে দুই বছর আগে একজনের সাথে পরিচয় হয়। শুরুর থেকেই সে আমার প্রতি আগ্রহী ছিল এবং তার আগ্রহে আস্তে আস্তে আমিও তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। ঠিক সেই সময়ে সে আমাকে সম্পর্কের বদলে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয়। আচমকা এই কথায় আমি কষ্টও পাই,অবাকও হই কেননা আমি জানতাম না হঠাৎ কেন সে পিছিয়ে পড়ল, তবে সবচেয়ে বেশি অপমানিত বোধ করি। আমার সেলফ রেস্পেক্টের তাড়নায় আমি বন্ধুত্বে রাজি হই এবং যোগাযোগ অফ করিনা এটা প্রমাণ করতে যে আমাকে ভাঙা এত সহজ না। পরবর্তীতে আবার মনে কিছু প্রতিহিংসা কাজ করে আমার। মনে হতে থাকে যে ছেলেটা আমাকে কাছে টেনে ছেড়ে দিয়েছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম যে আমিও ওকে আমার জায়গায় নিয়ে আসব। সেখান থেকেই ওকে জেলাস ফিল করালাম,কাজও হল তাতে। কিন্তু আমি নিজেই সম্পর্কে আটকা পড়লাম। কারণ ও তখন নিজের জায়গাটা ওর মত করে ক্লিয়ার করেছিল আর আমিও সেটা মেনে নিয়েছিলাম।

আমি জীবনে এত মানুষ দেখেছি, এত ছেলে দেখেছি কিন্তু ওর মত ছেলে খুব কমই দেখেছি। ও আমার জীবনটা আনন্দে ভরিয়ে রেখেছিল। ওর সবচেয়ে ভালো দিক হল ও খুব সুন্দর করে চিন্তা করতে পারে। টিপিক্যাল সম্পর্কের মত সম্পর্ক ওর কখনও পছন্দ ছিল না, তাই দুজন দুজনকে যথেষ্ট স্পেস দিতাম। প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো। সারাদিন একসাথে থাকতাম। ওর ভার্সিটি, মেস, কাজের জায়গা, আড্ডার জায়গা সব জায়গাতেই আমার অবাধ বিচরণ ছিল। খুব অল্প সময়েই অনেক কাছে এসে যাই এবং সম্পূর্ণ শারীরিক সম্পর্ক না হলেও ফিজিক্যাল ইনভল্ভমেন্ট ছিল। এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে যায়। এর মাঝে একদিন জানতে পারি যে ওর একটা মেয়ের সাথে প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পর্ক চলছে। অর্থাৎ আমাদের সম্পর্কের এক বছর আগ থেকে। মেয়েটি ওর প্রথম প্রেমিকা এবং গত কয়েক মাস ও ডাবল ডেটিং করেছে। ওদের সম্পর্কে কিছু সমস্যার পর ওরা এক মাস সময় নিচ্ছিল এবং তখনই আমার সাথে পরিচয়। আমার সাথে শুধুমাত্র ফ্লার্ট মারার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু যখন দুপক্ষই দুর্বল হয়ে পড়ি, তখন তাই ও আমাকে এভয়েড করার চেষ্টা করেছিল ।যেহেতু আমি সেটা হতে দেইনি আর ও নিজেও দুর্বল ছিল, একসময় সম্পর্কটা হয়েই যায় আর এতদিন ও কাউকেই সত্যি বলার সৎ সাহসটুকু অর্জন করে উঠতে পারেনি।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   ‘বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক চায় সে’

ওদের খুব কম কথা কিংবা দেখা হতো বিশেষ করে আমাদের সম্পর্কের পর। আর তাছাড়া আমি কখনও ফেসবুক কিংবা মোবাইল চেক করিনি তাই আমার চোখে সম্পর্কটা পড়েনি। আমার সাথে সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে ওদের কয়েকবার দেখা হয়েছে, আমাকে ও বেশ কিছু মিথ্যা বলছে এবং আমার সাথে যতটুকু ফিজিক্যাল ইনভল্ভমেন্ট আছে ওই মেয়েটার সাথেও ততটুকু আছে। লাইফে কোনদিনও এত কষ্ট পাইনি। কষ্টের থেকে বেশি অবাক হয়েছিলাম। কারণ ও কখনও আমাকে একটুও অসম্মান করেনি আর আমিও ওর মত এত সুন্দর মনের ছেলে দেখিনি। এই দেখা কীভাবে ভুল হয়ে গেল? ও সবসময় আমাকে বলতো পৃথিবীতে কোনও কিছু সম্পর্কেই হতেই পারেনা ভেবনা। যে কোনো কিছুই হতে পারে। একটু হলেও সম্ভাবনা থাকে। আমি লাইফে কখনও ধাক্কা খাইনি তো আমার কখনই ওর এই কথাটা মন থেকে ঠিক লাগেনি। যাইহোক আমি,ও আর সেই মেয়েটি এই তিনজন মুখোমুখি হলাম ওর ইচ্ছাতেই। কয়েকদিন অনেক কাহিনী চলল। ওর সাথে ওই মেয়েটার ব্রেকাপ হয়। আর আমিতো পুরোটা জানার পরে এমনিতেই প্রেমিকার অধিকারটুকু সরিয়ে শুধুমাত্র বন্ধু হয়ে পাশে ছিলাম। হ্যাঁ, ওই সময়টা আমি আমার সর্বোচ্চ মানসিক জোর খাটিয়েছি। ওর সামনে একবারও কাদিনি বরং ওর বন্ধু হয়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ওকে সময় দিয়েছিলাম কিছুদিন একা থাকার জন্য এবং নিজেকে বোঝার জন্য যে ও কাকে চায়। প্রথমদিন ওই মেয়েটি অনেক পাগলামি করলেও পরে নিজেই রাজি হয় বন্ধুত্বের প্রস্তাবে। পরবর্তীতে ও আমার সাথে থাকতে চায় আর ওই মেয়েটার সাথে আস্তে আস্তে সময়ের সাথে সবরকম কন্টাক্ট বিচ্ছিন্ন করে। আমাদের সম্পর্ক শুরু হয় পরিপূর্ণভাবে এবং স্বচ্ছতার সাথে। এই পর্যন্ত যা বললাম এটা আমার জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃস্বপ্নের মত একটা অধ্যায়। আমার মূল সমস্যা শুরু হয় আরও অনেক পরে।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   প্রতিরারেই তার রুমে ৩/৪ ঘন্টা সময় কাটাতাম, অথচ আজও…

 

আমার একটা অভ্যাস হল যখন আমি কোনও চাপে থাকি তখন সব সামলে নেই আর যখন একদম স্বাভাবিক হয় সবকিছু তখন গিয়ে সেই চাপটা এফেক্ট ফেলে। এবারেও তাই হল। নতুন করে সম্পর্ক করার শুরুতেই ও আমার সাথে ভালোভাবে আলোচনা করে নেয়। প্রথমত, আমি কি ওকে আসলেই মাফ করতে পারব ?আমি ওর সাথে ভালো থাকব তো? আমি কি আবার ওকে বিশ্বাস করতে পারবো? আমার উত্তর ছিল আমি পারব। কারণ ভালবাসা যতদিন থাকে নিজের অজান্তেই আবারও একটা বিশ্বাস তৈরি হয়ে যায়। ও আরেকটা জিনিস বলেছিল যে, দেখো আগে আমার নিজের মধ্যেই খাদ ছিল, বাট এখন যেহেতু আমি সম্পূর্ণভাবেই শুধুমাত্র তোমার সাথেই সম্পর্ক করব হতে পারে, আমি আরেকটু আকড়ে ধরছি কিংবা আগের থেকে হয়তো একটু আধটু চেঞ্জ হয়ে গেছি তুমি কি এটা মেনে নিতে পারবা?সেখানেও আমার জবাব পজিটিভ ছিল। কিন্তু যত টাইম যেতে লাগলো আমি একটু একটু করে বদলাতে শুরু করলাম। আমি প্রচণ্ড উচ্ছল একটা মেয়ে ছিলাম। ওই ঘটনার পরে আমি পালটে যেতে শুরু করি। ফাঁকা ফাঁকা ভাব এসে ভর করে। ওই ঘটনার কথা মনে পড়লে কিছু জায়গায় এখনও খুব বাজে ফিল হয়। মনে হয় আমার সাথে সম্পর্ক চলাকালীন ও কীভাবে অন্য কাউকে টাচ করল? আমার চোখে চোখ রেখে এত সহজে কীভাবে মিথ্যা বলল? কিন্তু এটা আপু ছোট সমস্যা ।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন