‘দুলাভাই আমাকে বিছানায় যেতে বলে, আর…..’

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের নিয়মিত আয়োজন “প্রিয় সম্পর্ক”। আরসম্পর্ক ভিত্তিক সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে পরামর্শ দিচ্ছেন গল্পকার রুমানা বৈশাখী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি আগে পেপারে পড়তাম, কখনও ভাবিনি যে এই ঘটনাগুলো নিজের জীবনে ঘটবে। আমার বয়স ২০ বছর। আমরা ১ ভাই, দুই বোন। আমার আপুর বিয়ে হয়েছে ৩ বছর হল।

আমার আপুর এর মধ্যে ২টি বাচ্চা মিসক্যারেজ হয়েছে। গত দেড় বছর আগে একটি ছেলে পেটে মারা যায়। তখন থেকে ওর স্বামী ওকে এভোয়েড করত। শারীরিক কোন সম্পর্ক করতে চাইতো না। আবার, দুলাভাই নিজেই আমাকে এসব বলতেন।

এই বছরের প্রথম দিকে দুলাভাই আমাকে বললেন, “আপুর ফিগার তার পছন্দ না। আমার ফিগার তার ভালো লাগে”। আরও বলেন যে আপুর সাথে যখন শারীরিক সম্পর্ক করেন তখন আমাকে ভাবে। শেষ পর্যন্ত তিনি আমার শরীরের আপত্তিকর ছবিও চেয়ে বসলেন!

এরপর আমি তাঁকে এভোয়েড করতাম। যাই হোক, আপু যখন আবার প্রেগন্যান্ট হলো, তখন উনি আমাকে আবারও বললেন যে ছবি কখন দিবো। আমি বললাম, আপনি না হজ্জ করলেন, তাহলে এসব কী ধরনের কথা বলেন?

এরপরও উনি অনেকভাবে আমার সাথে ফোনে আপত্তিকর  কথা বলতে চাইলেন। আমিও একটা ভুল করলাম। ফোনে না হলেও চ্যাটে তার সাথে যৌনতা বিষয়ক কথাবার্তা বলেছি। এই ভেবে বলেছি যেন আপুকে ফেলে তাঁর অন্য কারো দিকে চোখ না যায়।

আমার দুলাভাই আমাকে অনেক কথা শেয়ার করে। মানে উনার আর আপুর ঝগড়া হলে আমাকে বলে। আমি আপুকে আমার মত করে বুঝিয়ে মিটমাট করে দিই। এভাবেই চলছে।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   ‘ভাগ্নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, আর এখন.…’

এখন কী করবো আপু? ইসলামে কি সেক্স চ্যাট/ ফোন সেক্স করা হারাম? আমি কীভাবে উনাকে এভোয়েড করবো”

পরামর্শ:
দেখো আপু, এই অল্প বয়সে তুমি অসম্ভব বাজে একটা নোংরামিতে জড়িয়ে গিয়েছ। এত বাজে নোংরামি যে এটার জন্য কেবল তোমাকে নয়, তোমার বোনকেও অনেক বড় মাসুল দিতে হবে। তুমি কি নিজে একবারও ভেবে দেখছো না যে কী ভয়ানক অন্যায় তুমি করছো। নিজের বোনকে কি মারাত্মক ভাবে ঠকাচ্ছ তুমি, সেটা কি একবারও মাথায় আসছে না তোমার?

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

তোমার শেষ কথা থেকে শুরু করি। অতি অবশ্যই ইসলাম ধর্মে এই সকল কাজ হারাম। লোকটা তোমার আপুর স্বামী, তাঁর সাথে এমন নোংরামিতে জড়ানোর আগে একবারও কি বোনের কোথা মাথায় এলো না। সে যদি আপুকে ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে যেতে চায়, যাক। তোমার বোনের জীবনটা বেঁচে যাবে। কী ভাবছো তুমি, সেই লোক তোমাকে ভালোবাসে, তোমার আপুকে ভালোবাসে? একেবারেই না। সে পৃথিবীর কোন নারীকেই ভালোবাসে না। তাঁর কাছে নারী মানে কেবলই একটা যৌন পণ্য। যে লোক তোমাকে এটা পর্যন্ত বলেছে যে তোমার আপুর সাথে যৌন সম্পর্কের সময় সে তোমার কথা ভাবে, আমি বুঝতে পারছি না তাঁর সাথে তুমি সম্পর্ক কীভাবে রাখছো? কীভাবে বলছো যে সে তোমাকে সবকিছু শেয়ার করে। ছিঃ! বড় বোন মায়ের মত হয়। সেই বোনের সাথে এত বড় প্রতারণা!!

তুমি অবিলম্বে এই লোকের সাথে সমস্ত যোগাযোগ, সব রকমের যোগাযোগ বন্ধ রাখবে। সে তোমাকে হুমকি দেবে যে তোমাদের চ্যাট মেসেজগুলো সবাইকে দেখিয়ে দেবার। এই হুমকিতে ভয় পাবে না। দেখাতে গেলে সে নিজেই আগে ফাঁসবে, তাই সে কাউকেই দেখাবে না। আর এমনভাবে যোগাযোগ বন্ধ করো যেন সে তোমাকে দেখতে না পায়, ফোন করতে না পারে। সে তোমাদের বাসায় এলে নিজের ঘরে দরজা আটকে থাকবে। আপাতত বোনকে কিছু বলার দরকার নেই যেহেতু সে গর্ভবতী। কিন্তু বোনের সন্তান হবার পরও লোকটা যদি এমনই করতে থাকে, সোজা পরিষ্কার ভাষায় বোনকে সব খুলে বলবে। নিজে যা করেছো, সেটা সহ। তোমার বোনের অধিকার আছে জানার যে তাঁর স্বামী কি নোংরা একটা মানুষ।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   আমরা একসাথে দুই ঘন্টা ছিলাম, ও জোর করে আমাকে…..

একটা কথা জেনে রাখো, এই লোক তোমাকে ভালোবাসে না। স্ত্রী গর্ভবতী, তাই সে যৌন সুখ লাভের জন্য তোমাকে খোঁজে। তার কোন মিষ্টি কথায় ভুলবে না। ভবিষ্যতে তুমি যখন কাউকে ভালবাসবে বা বিয়ে করবে, এই লোক কিন্তু তোমার জীবনে তখন মারাত্মক অশান্তি তৈরি করবে। এই লোক তোমাকে বেশী উত্যক্ত করলে তুমি পাল্টা হুমকি দেবে সবকিছু জানিয়ে দেয়ার। হজ্জ করলেই একজন মানুষ ভালো মানুষ হয়ে যায় না যে তার সব কোথা তোমাকে শুনতে হবে। তার উদাহরণ এই তো এই দুলাভাইয়ের মাঝেই দেখছো। লোক দেখানো এই হাজীরা নিকৃষ্টতম প্রাণী।

বিশেষ দ্রষ্টব্য
আমি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা আইনজীবী নই। কেবলই একজন সাধারণ লেখক আমি, যিনি বন্ধুর মত সমস্যাটি শুনতে পারেন ও তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন।  পরামর্শ গুলো কাউকে মানতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ যদি নতুন কোন দিক নির্দেশনা পান  বা নিজের সমস্যাটি বলতে পেরে কারো মন হালকা লাগে, সেটুকুই আমাদের সার্থকতা।

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন