সম্পর্কের এক মাসের মধ্যেই সে আমার শরীর চাইলো

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের নিয়মিত আয়োজন “প্রিয় সম্পর্ক”। আর সম্পর্ক ভিত্তিক সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে পরামর্শ দিচ্ছেন গল্পকার রুমানা বৈশাখী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি অনার্স পড়ছি। আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো। আমার মা বাবাকে অনেক ভালোবাসি আমি আর তার কারণ আমার ভাইয়ের জন্য আমার মা বাবা জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছে। ভাইয়াকে এরেঞ্জ ম্যারেজ করিয়েছিলো কিন্তু তার বউটা ভালো পড়েনি। আমার মা বাবার আমাকে নিয়ে অনেক আশা। আর তাই আমি সবসময় চেয়েছি আমার পরিবারের পছন্দেই বিয়ে করবো। কারণ তাদের কষ্ট দিয়ে সুখী হতে পারবোনা।

স্কুল, কলেজ এভাবেই পার করেছি। কিন্তু অনার্সে ভর্তি হবার পর একটি ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক হয়, প্রথমে যদিও কিছুটা অনিচ্ছুক ছিলাম আমি। কারণ ছেলেটার কিছু বাজে অভ্যাস ছিলো। ও ধূমপান করত, আমার আগে আরো কয়েকজনের সাথে ওর সম্পর্ক ছিলো। তারপরও কী করে যেন সম্পর্কটা হয়ে গেল। ও বলত, তুমি আমার জীবনে আসলে আমি সব বাজে অভ্যাস ছেড়ে দিবো। ভেবেছিলাম আমার ভালোবাসা দিয়ে ওকে বদলাতে পারবো। কিন্তু পারিনি। ভালোবাসা কেবল ১ মাসের ছিলো কিন্তু আমি ওকে সত্যি ই ভালোবেসে ফেলেছিলাম। কিন্তু ও যখন শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চাইলো তখন আমি সম্পর্কটা আস্তে আস্তে শেষ করে দিলাম। ও কয়েকদিন নক করেছিলো আমি রিপ্লাই দেইনি। আমার মত মেয়ের শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রশ্নই আসেনা। কিন্তু আমি ওকে আজও বলিনি যে কেন আমি আমি সম্পর্কের ইতি টেনেছিলাম।

ফেসবুকে আমার একটা খুব ভালো বন্ধু ছিলো। ও আমার সম্পর্কের কথা জানত তবে অতটা নয়। আমার কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারণে তাকে কিছু মিথ্যা বলেছিলাম। নিজের সেফটির কথা চিন্তা করে তাকে ঠিকানা, এসএসসি, এইচএসসি পাশের বছর, কোথায় পড়ি সব মিথ্যা বলেছিলাম। কারণ আমার সব ছেলেকে নিয়ে সন্দেহ হত। আমি চাইনি আমার জীবনে আর কোন সমস্যা হোক। কিন্তু গত এক বছর ধরে ছেলেটা আমাকে পাগলের মত ভালোবেসে ফেলেছে। আমার কোন ছবি ফেসবুকে দেয়া নেই। আমাকে না দেখেই সে অনেক ভালোবাসে। আমি অনেকবার মানা করেছি কিন্তু ও অনেক পাগলামী করে। সত্যি বলতে কি, ওকে আমিও ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তু আমি তাকে বলতে চাইনি যে আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু ও নাকি আমার জন্য না খেয়ে থাকে, হাত কাটে, নিজেকে আঘাত করে, অনেক কাঁদে আর সেগুলো আমাকে রেকর্ড করে পাঠায়, ছবি তুলে পাঠায়। ওর অন্য কোন চাহিদা নেই। আমার ওকে একজন ভালো মানুষ মনে হয়।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   আমি কি তাহলে দুটি ছেলেকেই ভালোবাসি?

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ওর গ্রামের বাড়ি অনেক দূর। আর ওদের অর্থনৈতিক অবস্থানও তেমন একটা ভালো নয়। ও একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ সেমিস্টারে পড়ছে। কিন্তু আমার পরিবার যে কোন সময়ই আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলতে পারে। কেবল আমি তাদের বলেছি যে আমি এখন বিয়ে করবোনা কিন্তু তারা চাচ্ছে এখনই দিতে। আমার পরিবার তো বোধহয় এত দূরে আমাকে বিয়ে দিতে রাজী হবেনা। তাছাড়া ও তো এখন কিছু করেও না। এছাড়াও আমি তো ওকে আমার সম্পর্কে সব মিথ্যে বলেছি।

আমি বুঝতে পারছি না কী করবো? কারণ আমি মা বাবাকে কষ্ট দিতে চাইনা। আমি কাউকে ভালোবাসি বা নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করবো শুনলে তারা খুব কষ্ট পাবে। উল্লেখ্য এই ছেলের সাথে আমার এখনও সম্পর্ক হয়নি। আমি ওকে এখনো দূরে সরিয়ে রেখেছি। ভালোবাসতে চাইনি কিন্তু মনের অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি ঠিকই। আমি বুঝতে পারছিনা আমি কী করবো।”

পরামর্শ:

প্রথম সম্পর্কটি যেহেতু শেষ, সেটা নিয়ে আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। তবে আমার মনে হয় আপনি ঠিক কাজ করেছেন। এক মাসের প্রেমে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, এমন মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই উত্তম। এক পাশে তো পরস্পরকে জানাশোনাই ভালো মত হয় না! তাছাড়া নিজের মন সায় দেয় না, প্রেমের ক্ষেত্রে এমন যে কোন কাজই না করা ভালো।

দ্বিতীয় সম্পর্কটির ক্ষেত্রে বলবো… আমার মনে হয় আপনি ছেলেটার জন্য যেটা অনুভব করছেন সেটা সহানুভূতি বা মমতা, ভালোবাসা নয়। এই ছেলেটি নানান ভাবে আপনাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছে এবং সেটা খুবই বাজে ভাবে। কান্ননাকাতি করে রেকর্ড করে পাঠানো বা হাত কেটে ছবি তুলে পাঠানো, এগুলো চরম নির্বুদ্ধিতা। এমন একজন মানুষ আর যাই হোক, আপনার জন্য যোগ্য জীবনসঙ্গী একেবারেই না। বোঝাই যাচ্ছে তাঁর মাঝে ম্যাচিউরিটির অভাব আছে। এমন আবেগী মানুষের সাথে প্রেম করতে তো অবশ্যই ভালো লাগে, কিন্তু বিয়ে করে সংসার করার চিন্তা একেবারেই বাদ দিন।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   এই দেশের মেয়েরা এত পুরুষ খোঁজে কেন?

আমার মনে হয় ছেলেটির প্রতি আপনার আবেগ আর বাড়তে না দেয়াই উত্তম। আপনি কৌশলে সরে যান, আর হাত কাটা বা কান্নাকাটি টাইপ ব্ল্যাকমেইলে মনকে গলতে দেবেন না। যেহেতু নিজের সম্পর্কে তাঁকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, সেগুলোও আর সংশোধন করার দরকার নেই। নাহলে সে আপনাকে খুঁজে বের করে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। একটা সামান্য ভুল ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। আর বিয়ে অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত। তাই অনেক বুঝেশুনে ভেবেচিন্তে দেখেশুনে বিয়ের পথে পা বাড়ান। আর আমার মনে হয় না এই ছেলেটি ভালো স্বামী হতে পারবে। কী দরকার মা বাবার মনে কষ্ট দিয়ে এমন অপরিপক্ক কাজ করে ফেলার।

এমন আরও কিছু সংবাদের লিংক:-