“বিয়ের ১৩ বছর পর স্ত্রী পুরানো প্রেমিকের সাথে চরম পর্যায়ে….”

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবেই। আর সম্পর্ক থাকলে থাকবে সমস্যা। প্রতিদিন ফেসবুকের ইনবক্সে ও ই-মেইলে আমরা অসংখ্য সম্পর্ক ভিত্তিক প্রশ্ন পাই, যেগুলোর কথা হয়তো কাউকেই বলা যায় না। পাঠকদের করা সেইসব গোপন প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমাদের নিয়মিত আয়োজন “প্রিয় সম্পর্ক”। আরসম্পর্ক ভিত্তিক সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে পরামর্শ দিচ্ছেন গল্পকার রুমানা বৈশাখী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা। 

“আমার ১৮ বছর বয়সে আমি প্রথম কারও প্রেমে পড়ি, যাতে আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। দ্বিতীয় বার যখন প্রেমে পড়লাম তখন দেখলাম আমার প্রতি তাঁর অনেক আগ্রহ। পারিবারিক এবং মানসিকভাবে অনেক একা থাকার কারণে আমিও তাকেই আমার সবকিছু ভেবে নেই।

তারপর হঠাৎ করে আমি তাকে বিয়ের কথা বলি। আর তাতে দেখি আমার চেয়ে তার আগ্রহই বেশি। আমার পকেটে তখন বিয়ে করার মত টাকা ছিল না, সে নিজেই টাকা জোগাড় করল। আর আমিও আমার বাবা এবং বোনদের অজান্তে তাকে বিয়ে করি।

বিয়ের মাসখানেক পর আমি বিদেশ চলে যাই। দেড় বছর পর আমি দেশে ফিরে আসি। তারপর আমার পরিবারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা করে আমি তাঁকে আমার বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্তু আমার বাড়িতে সে থাকবে না বলাতে আমি তাঁকে নিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে আসি।

এর কিছুদিন পর আমি জানতে পারি যে আমার সাথে পরিচয়ের পুর্বে সে অন্য কাউকে পছন্দ করত। কিন্তু আমি জেনেও সেটা না জানার মতই ছিলাম। ভেবেছিলাম আমিও তো কাউকে পছন্দ করতাম। এভাবে ঘরজামাই হয়েই আমার জীবন কাটছিল। মাঝে মাঝে সে আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করত। তাতে আমি ভাবতাম ভালবাসার মানুষের সাথে কেউ কি এমন ব্যবহার করতে পারে? তবুও আমি ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতাম।

কিন্তু হঠাৎ একদিন শুক্রবার আমি বাসায় থাকা অবস্থায় স্ত্রীর মোবাইলে একটা কল আসে যা আমি রিসিভ করি। আর ফোনে সেই ছেলেটি ছিল সে, যাকে আমার স্ত্রী পছন্দ করত। তার কয়েকদিন পর আমি সেই ছেলেটিকে কল করাতে ছেলেটি আমাকে কথা দিয়েছিল যে সে আর কখনো আমার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখবে না। ছেলেটি সে বারের মত কথা রেখেছিল। আমার স্ত্রী তখন অনেক চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   জেনে নিন প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রন সম্পর্কে

কিন্তু আজ চার বছর পর সেই ছেলেটির সাথে আবার সম্পর্ক শুরু করেছে। যা অনেক চরম পর্যায়ে চলে গেছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও তাকে ফেরাতে পারছি না। বিয়ের ১৩ বছর বয়স আমাদের। ২টা বাচ্চাও আছে আমাদের। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আজ আমি দিশেহারা হয়ে গেছি। যার জন্য আমি আমার সবকিছু ছাড়লাম, সে কেন আমার সাথে এমন প্রতারণা করছে। কেন সে আমাকে তার জীবনে টেনে নিল? কেনই বা স্ত্রী আজ আবার তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছে যেতে চাচ্ছে? আমার এখন কী করা উচিৎ?”

পরামর্শ:

ভীষণ কষ্ট হলো আপনার চিঠি পড়ে ভাই। জীবন মাঝে মাঝে কিছু মানুষের জন্য এত নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে যে কল্পনাও করা যায় না। সবদিক এলোমেলো হয়ে যায়, মনে হয় চারদিকে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই নেই। আপনার জীবনটিও এখন এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে।

আপনার চিঠিতে একটি কথার উল্লেখ নেই, সেটা হলো আপনি কী করেন? আপনার আর্থিক অবস্থা কেমন? আর আপনি এখনো সন্তানদের সহ ঘর জামাই থাকেন? আর আপনার আর্থিক অবস্থা কি এতটুকু ভালো যে শ্বশুরবাড়ির সাপোর্ট ছাড়াও চলতে পারবেন? কারণ ভাই, হয়তো জীবনে সেই সময়টাই আসতে চলেছে।