বাবা-মা দু-জনের হাই প্রেশার থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা ৬৫-৭০ শতাংশ৷

বাবা-মা দু-জনের হাই প্রেশার থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা ৬৫-৭০ শতাংশ৷ একজনের থাকলে ৩০-৪০ শতাংশ৷
বংশে হাইপ্রেশার থাকলে ওবেসিটি, ধূমপান, স্ট্রেস, ভুলভাল খাওয়া, শুয়ে-বসে থাকার অভ্যেস থেকে রোগের সূত্রপাত হতে পারে৷
হাইপ্রেশারে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শতকরা ৫-৬ জনের রক্তচাপ বাড়ে কিছু অসুখে৷ যেমন কিডনি বা এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ডের অসুখ, হাইপার ক্যালসিমিয়া, পরফাইরিয়া, কোয়ার্কটেশন অফ এওরটা ইত্যাদি৷

কিছু মহিলার প্রেশার বাড়ে গর্ভাবস্থায়৷
উপসর্গঅনেক সময় বোঝা যায় না৷ অন্য কারণে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জানা যায়৷ মূলত এই কারণেই যত মানুষ হাইপ্রেশারে ভোগেন, তার মধ্যে কম করে ৫০ শতাংশ কোনও দিনই জানতে পারেন না যে তাদের সমস্যা আছে৷ স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে পর্যন্ত রোগ ধরা পড়ে না৷ কিডনিও তলে তলে খারাপ হতে শুরু করে৷ ভাগ্যবানদের কিছু উপসর্গ হয়, যা রক্তচাপ বাড়া ছাড়া অন্য কারণেও হতে পারে৷ যেমন, ১) মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাথার পিছনে৷ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা শুরু হয়৷ দু-চার ঘণ্টা পরে কমে৷ ২) মাথাঘোরা, ৩) বুক ধড়ফড় ৪) মনোযোগের অভাব, ৫) ক্লান্তি, ৬) হাঁপ ধরা, ৭) মাংসপেশির দুর্বসতা, ৮) পা ফোলা, ৯) বুকব্যথা, ১০) নাক দিয়ে রক্ত৷

চিকিৎসা

মাঝারি এবং মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতে হয় সঙ্গে জীবনযাত্রার নিয়ন্ত্রণ৷ মৃদু উচ্চ রক্তচাপে দ্বিমত আছে৷ কিছুক্ষেত্রে ওষুধ লাগে না৷ নিয়ম মেনে চললেই অবস্থা আয়ত্তে আসে৷কয়েক রকম ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা হয়৷ যেমন-

১) ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, এসিই ইনহিবিটার, এআরবি এবং ডাইইউরেটিক দেয়া যায় যেকোনো ধরণের হাইপ্রেশারেই৷ তবে কমবয়সীদের ক্ষেত্রে এসিই ইনহিবিটার ও এআরবি ভালো কাজ করে বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে ভালো কাজ হয় ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং ডাইইউরেটিক৷

২) বয়স্ক মানুষের যদি ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট ফেলিওর, হালকা কিডনির অসুখ থাকে এসিই ইনহিবিটার এবং এআরবি জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে৷ গর্ভবস্থায় এই ওষুধ দেওয়া যায় না৷

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   যে পাঁচ ভুলে অকালে হারাচ্ছেন আপনার যৌবন

৩) রেজিস্ট্যান্ট ব্লাড প্রেশারে অন্য ওষুধের সঙ্গে আলফা ব্লকার বা অ্যালডোস্টেরন অ্যান্টাগনিস্ট দিলে ভালো কাজ হয়৷ বিটা ব্লকারও দেয়া হয়৷ তবে সাধারণভাবে এই ওষুধ ইস্কিমিয়া থাকলেই দেওয়া হয় বেশি৷ হাইপ্রেশারের সঙ্গে হার্ট ফেলিওর থাকলে অ্যালডোস্টেরন অ্যান্টাগনিস্ট ভালো কাজ করে৷

জীবনযাপনের নিয়ম
ওজন ঠিক রাখা৷
হালকা ব্যায়াম করা৷ দু-তিন কিলোমিটার টানা হাঁটলেও কাজ হয়
পাতে নুন বন্ধ৷ রান্নায় কম নুন ব্যবহার করা৷ এবং যে খাবারে নুন বেশি আছে যেন ফাস্টফুড, আচার, সসেজ, পাঁপড়ি, মুড়ি খাওয়া কমানো৷ যে খাবারে ওজন এবং কোলেস্টেরল বাড়ে, যেমন মিষ্টি আলু, ঘি, মাখন, ডালডা, ডিমের কুসুম, পাঁঠার মাংস, ভাজাভুজি, তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়া৷
মানসিক চাপ, টানাপোড়েন এড়িয়ে বাঁচতে শেখা৷
তামাকের নেশা ছেড়ে দেয়া
ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা৷ মাসে অন্তত দু-বার রক্তচাপ মাপা৷
প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া৷ সাইড এফেক্ট হলে ডাক্তারকে জানানো৷
অন্য ওষুধ শুরু করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা৷
সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে, নিয়ম মানতে হবে সেই মানসিক প্রস্ত্ততি৷

কী কী করা যাবে না
খুব বেশি রাগারাগি, চেঁচামেচি নয়৷
আগেকার দিনে ভালো ওষুধ ছিল না৷ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমন দুধ, ছানা, ছোট মাছ, পেঁয়াজ বেশি করে খেতে হত৷ এখনও অনেকে সেই নিয়ম মেনে চলেন৷ এ সমস্ত খাবার খেতে পারেন, কিন্ত্ত ওষুধের বদলে নয়৷
গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়া মা-বাচ্চা দুইয়ের জন্যই বিপজ্জনক৷ কাজেই সমস্যা হলে ডাক্তার দেখান৷ বাচ্চা জন্মানোর পরও ফলোআপ চালিয়ে যাবেন৷ কারণ কিছু মহিলার ক্ষেত্রে পরবর্তীকালেও সমস্যা থেকে যায়৷

চিকিৎসা না করালে
রোগ পুষে রাখলে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ থেকে শুরু করে হার্ট ফেলিওর, স্ট্রোক, ব্রেন ইডিমা, পায়ে গ্যাংগ্রিন, পায়ে স্ট্রোক, কিডনি ফেলিওর, চোখের রেটিনার সমস্যা, চোখে থ্রম্বোসিস থেকে হেমারেজ সব কিছু হতে পারে৷ অতএব মাঝে মাঝেই রক্তচাপ মাপুন৷

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   টমেটোর পুষ্টি গুন

সূত্র: অনলাইন ইওর হেলথ…………………..!