ধূমপায়ীদের মেয়ের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

ধূমপানে কমে পুত্রসন্তান জন্মদানের ক্ষমতা। আর যেহেতু সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মূল ভূমিকায় থাকেন পুরুষ, তাই এ তথ্যটি মূলত তাদের জন্যই। বিজ্ঞান বলছে, ধূমপান পুরুষের দেহে থাকা পুত্রসন্তানের অনুঘটক ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম নষ্ট করে ফেলে। তাই তাদের মেয়ের বাবা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি হয়।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীরা শুধু কন্যা সন্তানের অনুঘটক ‘এক্স’ ক্রোমোজম বহন করে এবং পুরুষরা ‘এক্স’ এবং ‘ওয়াই’- দুই ধরণের ক্রোমোজম বহন করে। তাই সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তা নির্ভর করে পুরুষটির ওপরেই।

সেক্ষেত্রে পুরুষের শরীরে যদি ওয়াই ক্রোমোজমের ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে তার কন্যাসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে শরীরবৃত্তীয় কারণে অধূমপায়ীরাও ‘ওয়াই’ ক্রোমোজমহারা হতে পারেন, তবে তাদের এ আশঙ্কা ধূমপায়ীদের চেয়ে অন্তত তিন গুণ কম। বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন, ‘ওয়াই’ ক্রোমোজমের অভাবে ধূমপায়ী পুরুষরা নানা ধরনের জটিল ক্যান্সারেও আক্রান্ত হন। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ধূমপায়ীদের রক্তকণিকা থেকে মাঝেমধ্যেই ‘ওয়াই’ ক্রোমোজমটি হারিয়ে যায়।

শুক্রাণু উৎপাদন ও যৌন আগ্রহের মূল উদ্দীপক হচ্ছে এই ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম। কিন্তু তামাকের নিকোটিন রক্তকণিকায় এ ক্রোমোজমের উপস্থিতিবোধ নষ্ট করে দেয়। অধূমপায়ী কিংবা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন- এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয় না বললেই চলে।

বিজ্ঞানীরা সায়েন্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরও জানান, নারীর তুলনায় পুরুষের দেহে জটিল ক্যান্সারের উপস্থিতি বেশি। তাদের গবেষণা বলছে, শরীরে ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপানের মাধ্যমে পুরুষের কোষ বিভাজনে অসাম্য তৈরি হয়।

এ কারণে তার দেহে নানা ধরনের জটিল ক্যান্সার বাসা বাঁধে। গবেষকদলের সদস্য ও উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জান দুমানস্কি বলেছেন, ‘এ গবেষণা আমাদের জানিয়েছে কেন পুরুষদের জীবনচক্র নারীদের চেয়ে কম, কেন তাদের শরীরেই জটিল রোগগুলো বিস্তার লাভ করে।

এ বিষয়ে আরও পড়ুন   স্তন ঢিলে হলে এবং ঝুলে গেলে কি করবেন ?