কি করে বোঝা যাবে ট্রাইকোমোনিয়াসিস হয়েছে ?

সুস্থ জীবনের জন্য জেনে রাখা জরুরী এমন একটি বিষয় হলো যৌনরোগ। অনেকেই বিরক্ত হয়ে ভাববেন, আমি জেনে কী করবো? আমার তো কখনো এমন রোগ হবেইনা! বাস্তবতা কিন্তু অনেক কঠিন। আর তাই এসব রোগ সম্পর্কে জেনে রাখাটাও ভীষণ জরুরী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন ময়মসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার লুৎফুন্নাহার নিবিড়।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগটি মূলত ছড়ায় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। নারীপুরুষ উভয়ের মাঝেই এই রোগের প্রকোপ দেখা গেলেও মূলত নারীদের মাঝে এর লক্ষণ বেশি প্রকট হয়ে থাকে। ছেলেদের মাঝে সাধারণত খুব একটা দেখা যায় না এবং লক্ষণগুলো কম বলে তারা খেয়ালও করেন না তেমন। এ কারণে নিজের অজান্তেই ছড়িয়ে দেন এক বা একাধিক সঙ্গীর শরীরে।

কী করে বোঝা যাবে ট্রাইকোমোনিয়াসিস হয়েছে? পুরুষের যৌনাঙ্গে ব্যাথা হতে পারে, বিশেষ করে মুত্রত্যাগ এবং বীর্যপাতের সময়ে। জ্বালাপোড়াও হতে দেখা যায়। এছাড়া কিছু পরিমাণে তরল নিঃসরণ হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ বেশি বোঝা যায়। সাধারণত যোনি থেকে সবজেটে-হলুদ তরলের নিঃসরণ হতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি মুত্রত্যাগের সময়ে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আশেপাশের এলাকায় চুলকানি হয়। এছাড়াও তলপেটে ব্যাথা হতে পারে, তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগটি খুব সহজেই আরোগ্য করা সম্ভব। তবে অবশ্যই সমস্যাগুলো লক্ষ্য করলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সময়মত চিকিৎসা না করলে বেশ খারাপ কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন গর্ভবতী নারীর এই রোগ থাকলে হতে পারে গর্ভপাত। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পানি ভাঙতে পারে। আরও একটি বড় আশংকা হচ্ছে এইচআইভি হবার সম্ভাবনা। ট্রাইকোমোনিয়াসিসে আক্রান্ত মানুষের এইচআইভি হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস ছড়ায় শুধুমাত্রই যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে। এ কারণে এই রোগে আক্রান্ত হতে না চাইলে সতর্ক থাকা জরুরী।

সঠিক নিয়মে কনডম ব্যবহার করুন।
একাধিক মানুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বিরত থাকুন।
নিজের জীবনসঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকুন।
ট্রাইকোমোনিয়াসিস হয়েছে এমন আশংকা করলে যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকুন ও ডাক্তার দেখান।